শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২

যাপিতকাল


জেনে গেছি গোপন বৃত্তান্ত আড়িপাতা
সাবধানবাণী লেখা নেই স্মৃতিকপালে

আধোরাত আধোমেঘ জোৎস্না
বানভাসি চন্দ্রিমায় প্রথম চুম্বন
সোমেশ্বরী সুগন্ধ ঘ্রাণ নিসিন্দা সমীরে
বিনাশবৃক্ষের তৃষ্ণা - সব বুঝে গেছি আমি

এইসব আগামী
এইসব ভেসে আসা বেনোজল

নাম হোক অন্তহীন বেদনার বাতায়নে ...







বৃহস্পতিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১২

আপোষ


সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত নামে, জোৎস্নার ছোঁয়া শরীরে, পেলব
চন্দ্রাতপে উছলে ওঠে প্রেম -
হামাগুড়িদিনে ফিরে যেতে যায়, বেদনায়।

আফশোষটা আবার ঘিরে ধরে চারিপাশ
আমার ভিতর বাহিরে !

কাল সকালে -
এ নিয়ে কোন আক্ষেপ রাখতে চাই না;
বরং রাতটা কাটাতে চাই নিজেকে বিলিয়ে
বেঁচে থাকুক আরও একটা জীবন।

যদিও জানি কাল ভোরে বিছানায় পড়ে থাকবে
একরাশ ঝোড়ো হাওয়ার রাত্রিবাসের চিহ্ন।

মুক্তপথ


এক চুমুকে শেষ হয়ে যাওয়া খালি গেলাসটা
একপাশে সরিয়ে রেখে
মুখ তুললেন।

ততক্ষনে মাসকাবারী খাতায় উঠে গেছে
আজকের সব হিসেব

মনে এখন শান্তি, বাইরে অন্ধকার
ভিতরের ফার্নেসে কেবল দাউদাউ আগুন

তিনি এখন রূপকথার দেশে -
উড়ন্ত কার্পেটে পাড়ি জমিয়েছেন চাঁদের বুড়ির কাছে,
হাতে সচিত্রপরিচয়প্ত্র, অ্যান্টাসিড।

কয়েকটা ঘন্টা পরেই তিনি ফিরে আসবেন এই পৃথিবীতে।

মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১২

আশা


অনামিকা, অনিকেত, এরা সবাই জাল বুনে গেছে
ঝরা পাতায়; শুকনো মৃতদেহে ভবিষ্যতে যাবার আগে
এরা বোঝে ভালোবাসা, মৃত্যুর স্বাদ
স্মৃতি হয়ে প্রেমে, কালের স্রোতে;

আজ শহরে রাত বদলায় তন্দুরী ওভেনে
শ্যাম্পেনের ফোয়ারায় আর
কামিনীর কোলে,
শিশির ভেজা পিচ রাস্তায় ...

একদিন দেখে নিও এরাই আবার মানুষ হবে
গোলাপের পাপড়ির খবর শোনাবে।

ক্লীবলিঙ্গ


গুনগুন শব্দে
রঙবেরঙা মৌটুসি
ভুলিয়ে দিল
ফুলের সমকামিতা;
এক্স-ওয়াই ক্রোমোজোমের হিসাবে
ওদের পরিচয় -
        মানুষ বোঝে
        মানুষ খোঁজে
হাতড়ে বেড়ায় বেসুরো অন্ধকারে।

এইটুকু লিখে লোকটা আবার থেমেছে,
বদলে যাচ্ছে অনুভুতি-উপমা-অলংকার
শব্দগুলো এখনো হারিয়ে যায়নি, অথচ -
সেই মৌটুসিটা আজও
এক ফুল থেকে আর এক ফুলে
        মিলন ঘটিয়ে চলেছে।

বোধ


বৃত্তের বাইরে
বিলি করছে মেয়েটা নিষিদ্ধ ইস্তেহার;
মান অপমান
    অহঙ্কারের সিলমোহরে
        পাচার হচ্ছে পলকে।

সৌজন্যের শেষ স্ট্রীটলাইট নিভে গেলে
    ধীর পায়ে বাড়ি ফিরে আসে বৃদ্ধ
অভিযোগ জমা হয় বিজ্ঞাপনের মোড়কে 
    পথ হারায় অস্ফুষ্ট গোঙানির শব্দ;
   
আমি বসে থাকি নতুন সঙ্গতের আশায়
    ঝলমলে সকালের গান শোনাব বলে।

অসমাপ্ত


ঝাড়লন্ঠনের আলোর ঝিকিমিকি
আমি দেখেছি,
দেখেছি সাঁঝবাতির চাঁদ
আসমানি জলছবিতে;
উঁচুনীচু পথঘাট
ফেলে যাওয়া
কালো রাত
এড়িয়ে গেছি আমি
শতাব্দী পথে হেঁটে যেতে,
চকমকি ঠোকা আগুনে পুড়িয়ে
মানুষ নরকের হাটে
গুনেছি অতীত মাছরাঙা পায়ে
একাকী বাস্তু ঘাটে,
যমযন্ত্রনা পানে শান্ত করেছি আমি
অন্তরাত্মার রাহু ।

এখন বসে আছি
তাম্বুলপাত্রে একটুকরো বিসর্গসুখের আশায় ...

পুরানো ছবি


(১)

নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে
আমি আর স্বপ্ন দেখিনা,
চিৎ হয়ে কেবল শুয়ে থাকি।

চোখ বুজলেই
টিনের চালার দালানকোটা,
ওলট-পালট ভাড়াটে বিছানায়
ছড়ানো ছেটানো আঁকি-বুকি
সময়ের ফাঁকে
সম্বিত ফিরে পাওয়া
টুকরো যত অনুভুতি;
এসবের মাঝেই
একটা লাল রঙের ওড়না
ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়।

কে জানে
তোমার গলা জড়িয়ে
কত রাত কেটেছিল তার।

(২)

পুরোনো সম্পর্কগুলো
আজো আমাকে নিয়ে খেলা করে
যতবার আমি সব ভুলে যেতে চাই
ঠিক মনে পড়িয়ে দেয় আমাকে  -
পূর্বপুরুষের সাথে আমার নাকি খুব মিল ছিল।
বিকেলের আয়নায় সেই মিল খুঁজতে গিয়ে
হারিয়ে যাই বোসন কনার থিওরীতে
ভরহীন হয়ে যেতে যেতে ভাবি
দোতলার চিলেকোঠা ঘরে একটা টেবিল
নীল রঙের মলাট দেওয়া খাতার পাতায়
বেহিসাবী কিছু লেখাগুলো
বেসুরো গলায় আমায় যেন ভেংচি কাটতো,
কেবল একটা পাতায় লেখা ছিল -
এসেছি, আমার কথা রেখেছি;

আজো আমি বসে কেবল পাতা ওলটাই
নীল মলাটের খাতায়
যদি কোন দিন দেখি নতুন একটা লাইন,
কাঁপা কাঁপা হাতে -
দেখো সত্যিই আমি এসেছি, তোমার কাছে।

বাইশে শ্রাবণ


কাঞ্চনকামিনীর সাথে মিশে যাচ্ছে সনাতনী প্রভাত
বাতাসে ডিজেলের গন্ধ, ট্রামের ঘন্টা ...

চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে ছাতিমতলা
কালোবাড়ি, হিমশীতল অপেক্ষা...
কিছু বুঝে ওঠার আগেই শব্দের মিছিলে
শ্লোগান মুখর -
চিত্রাঙ্গদা, খোলা চুল...
আরন্যক প্রেম উত্তরায়ন প্রাঙ্গনে;
বার্ধক্য, সেতো মনের গভীরে!
নিঃশব্দে কনীনিকায় অশ্রু গড়ায়
নিমগ্নতার আড়ালে তলিয়ে যায়
সমালোচকের ছদ্মবেশ।

সকাল থেকেই তোড়জোড়
অন্দর আর আঙিনা দুটোতেই দেবদারু
হলুদফুলের তোড়ায় ছোট্টশিশুটির কত আবেগ
কবিদাদু পরবে তার রতনহার।

সরকারী মননের পালা সন্ধ্যায়,
মিলিয়ে যায় জীবনানন্দের ইঁদুর-ধান-মাটি
হাইরাইজের লিফটের ব্যস্ততা
ঘনঘন বিদ্যুত-সংকট,
সবুজ কার্পেটের তলা থেকে বেড়িয়ে পড়ে
অন্দরমহলের শুকতারা,
কাজুফেণী আর বেলফুলে
উদ্দাম শ্বাস ফেলে বিছানায়
ধ্বংস হয় তাবড় সেবকের রবীন্দ্রপ্রীতি;

তখনও মায়াবী রাত্রির সিগন্যাল পোস্টের কারসাজিতে
বেজে ওঠে -
    "আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
    তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।"

পরিবর্তন


নতুন অ্যামেন্ডমেন্ট হয়ে গেল
একেবারে নতুন অ্যামেন্ডমেন্ট
ভাড়াটে আইন বদলে গেল
বাড়িওলা পড়লো বিপাকে,
এখন আর সমকামী বেআইনী নয়
তিন লাখে কোন ট্যাক্স দিতে হবে না
সব আছে, সব বলা আছে,
ডিভোর্স পেতে গেলে
দু'বছর একা থাকতে হবে
চেষ্টা করে দেখুন দাদা ভাগ্য যদি খোলে
দেখলেই কিনতে হবে না -
অনেকক্ষন ধরে চিৎকার করে
লোকটা বই বিক্রি করছিল;
আমি কাছে গিয়ে বললাম -
দাদা নতুন কিছু, রবীন্দ্রসংগীত ...
লোকটা বলে উঠলো -
আছেতো, আপনি দেখেন নি,
রবীন্দ্রনাথ তো এখন পালটে গিয়ে
নতুন কায়া - কালপুরুষ হয়ে গেছে,
দোহার মতিস্বর না মতিভ্রম,
বলিউডি হিন্দিতেও পাবেন রবীকিরন
কালে কালে কত দেখবো
হুঁহু বাবা, একেই বলে পরিবর্তন।

স্বাধীনতা না বিলাসিতা


গদিআঁটা বিছানা থেকে আজ সকালে ঘুম ভেঙে
      সন্তর্পনে পা রাখলাম - স্বাধীন দেশের মাটিতে,
            বৃষ্টিভেজা বাতাসে তখনও পরিচিত সোঁদা মাটির গন্ধ;

কান পেতে থাকলেও ভেসে আসছে না
      দেশ উদ্ধারকারী শহীদের চোরাগোপ্তা ফিশ্ ফাশ
            শব্দযন্ত্রে কেবল দেশাত্মবোধক বৃন্দ গানের ছন্দ।

আজ যে স্বাধীনতা দিবস - আমাদের সবার ছুটির দিন।

পাড়ার হোটেলের ছোট্ট নবাবী
           মানতেই চায় না, ভুলে যেতে চায় বারবার,

সকাল থেকে কম সে কম দুশো প্লেট না ধু‌`লে
      মিটবে না তার ক্ষুধা পেটের আবদার -
           দিনের শেষে জুটবে না এক মুঠো খাবার।

আস্তাকুঁড়ের ছাইগাদা থেকে কুকুরটা
আড়মোড়া ভেঙে হাই তুলে চলে যায়,
     এক মুঠো ভাতের স্বাধীনতা কি তবে সবার জন্য নয় ?
          নবাবী ভাবে - এই বিলাসিতা যদি কোনদিন তার হয় ...

তেরঙার সাদা হয়ে ওঠে কালো - বিকেলের সূর্য তখন ক্ষীণ।

পতিতা


স্পর্শকাতর সিগারেটের ধোঁয়ায়
কুন্ডলীকৃত নারীসৌন্দর্য্য;
বোতলের নিশিচন্দ্রানী গড়িয়ে চলে আবছায়ায়


তুমি মুক্ত - ভাবতে থাকো
মুক্তির স্বাদে মত্ত নাড়ী ছেঁড়া ভোরে


সকালের ব্যাগে এখন অনেক টাকা
ফিরে দেখোনা আর শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ।

নারী না পুরুষ


কারা পুরুষ
নারীবাদী কারা ভাবে নিজেকে
তোমার সংসারে যখন তুমি নিজেই কর্তা
পিতৃতান্ত্রিক সমাজের প্রতিভু স্বয়ং তুমিই !

চিৎকারে কেউ উত্তর দেবে না
ছাপা অক্ষরে বর্ণগুলো প্রতিবাদ জানাবে না
কেবল পাতাভর্তি বিক্ষোভ কাগজে লেখা হতে থাকবে;

গাল বেয়ে নেমে আসা নোনতা স্বাদের
দু'ফোঁটা চোখের জল মেয়েটা গিলে ফেলে

আর ভাবতে থাকে

এইসব স্বামী সংসার সামাজিক বিধিনিষেধ
একটা ওয়াই ক্রোমোজোমের জন্য

আসলে শিক্ষিত হওয়া মানেই তো প্রতিবাদ নয়।

ফিরে চাওয়া

এবারও শেষ হয়ে উঠলো না ...
হিসেবের খাতা মেলানোর আগেই
পায়ে হেঁটে পেরিয়ে গেল নিকানো উঠান
গাঁয়ের পাঠশালা, লাঙ্গল কাঁধে বিকেল
একলাটি ঘাটে মক্ষিস্নান
সব, সব কিছু;

এখন শুধু আতশ কাঁচ দিয়ে খুঁজি
অপদার্থতার ফ্যাকাশে নিশান, হিমশীতল চোখ
বুকের পাহাড়ে শূন্যতার আঁকিবুকি
নীল আকাশে বকের আগমন
আর জবাকুসুমের লালগন্ধ।

শেষ হয় না, সব যেন হারিয়ে যায়
আমার মধুমাস, অরন্য আর কস্তুরীগন্ধা দিনগুলো।
অনিকেত আজ বুঝি তোমার ঘরে ফেরার পালা?

পিপীলিকা

ওরা আসে
সার বেঁধে আসে
একসাথে, লেফট রাইট লেফট
ওদের চোখেমুখে যুদ্ধ, বাঁচার তাগিদ -
    অথচ দেখো সামনের জন
সৌহার্দ্য বিনিময় করছে পরস্পরে হেঁসেহেঁসে
একে অপরের মুখ ঠেকিয়ে নিজস্ব ভঙ্গীতে ...
ওরা ভালবাসতেও জানে
বোঝে ভালোবাসার মানে;
ওরা লুকিয়ে রাখে
আগত প্রজন্মকে পর্ণকুঠিরে
    বাঁচায় লালন করে ধারন করে ...

এদিকে আর একটা দল
এগিয়ে আসছে
লেফট রাইট লেফট
    হিংস্র বিষাক্ত
    চাপা ক্রোধ মুখে চোখে
এরাও বাঁচতে চায়
অধিকার ছিনিয়ে নিতে চায়
বেঁচে থাকার অধিকার
নিজেকে প্রতিষ্টিত করার
নিজের সৃষ্টিকে বাঁচানোর ...

লেগে গেল ধুন্ধুমার
কোলাহল হলাহল মৃত্যু
তবু লড়াই আমরণ লড়াই
পর্ণকুঠিরে আগামী প্রজন্মকে
সুরক্ষিত রাখার লড়াই ...

আশ্চর্য্য ...
ওরা কি বাঙালী,
    কবিতা লেখে ?
আমার জানা নেই,
তবে ওরা কখনো মুখোশ পরে না।